-- বিজ্ঞাপন ---

পাহাড় ভাঙল, নদী থামল, তারপর নেমে এলো প্রলয়: নেপালে সিনেমাকেও হার মানানো দুর্যোগ

কাজী মনসুর#

পাহাড়ের বুক চিরে ঘনিয়ে এলো নিস্তব্ধতা। আর তার পর মুহূর্তেই প্রলয়। সকালের আলো ফুটতেই নেপাল-চীন সীমান্তের পাহাড়ি জেলা রাসুয়ায় ভুটে কোশি নদী ধারণ করল এক ভয়ংকর রূপ। হঠাৎ ফুলে-ফেঁপে উঠে নদী পরিণত হলো বরফ, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের এক দানবীয় স্রোতে। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে গেল ঘরবাড়ি, গাড়ি, সেতু ও দীর্ঘদিনের নির্মিত অবকাঠামো। নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যে দেখা যায়—প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে মানুষ, আর তাদের পিছু ধাওয়া করছে কাদা-পানির বিশাল স্রোত।

দৃশ্যটি যেন কোনো ধ্বংসাত্মক হলিউড সিনেমার চিত্রনাট্য। কিন্তু এটি কোনো সিনেমা নয়। হিমালয়ের বুকেই বাস্তবে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ভূ-প্রাকৃতিক বিপর্যয়। হিমালয়ের এই প্রলয়ংকরী ঘটনায় নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক হিসাবে ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তালিকায় থাকা সবাই যে বিপদে পড়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নিখোঁজ ও হতাহতের চিত্র

প্রাথমিক তালিকায় থাকা ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন এনআরআই (Non-Resident Indian) রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৭ বলে জানা গেছে। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ার পর হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলো নিয়ে। ফলে ‘নিখোঁজ’ শব্দটি এই মুহূর্তে ‘নিশ্চিতভাবে মৃত’ বোঝায় না।

কোথায় ঘটেছে এই বিপর্যয়?

দুর্যোগের প্রধান কেন্দ্র নেপালের রাসুয়া জেলা। চীন-নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি তিমুরে, রাসুওয়াগাধি ও স্যাফ্রুবেশী এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অঞ্চলের জাইরোং (Gyirong) এলাকাতেও বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব পড়েছে। এই অঞ্চলের পাহাড়ি নদীগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ ও খাড়া উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। ফলে উজানে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ জমা হয়ে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হলে সেটি ভেঙে পড়ার পর নিচের দিকে পানির স্রোত ভয়াবহ গতিতে ছুটে যেতে পারে।

প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, উঁচু পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের ধস নেমে এসে লহেন্দে খোলা নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। সেখানে পানি ও ধ্বংসাবশেষ জমে সাময়িকভাবে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর সেই বাধা ভেঙে গেলে আটকে থাকা বিপুল জলরাশি ও ধ্বংসাবশেষ একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আসে। ভুটে কোশি নদীতে তৈরি হয় ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড।

অর্থাৎ ঘটনাটির সম্ভাব্য ধারাটি ছিল, বরফ-পাথরের ধস → নদীর প্রবাহ বন্ধ → পানি ও ধ্বংসাবশেষ জমা → প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়া → আকস্মিক ফ্ল্যাশ ফ্লাড → নিচের জনপদে ধ্বংসযজ্ঞ। এই ধরনের ধারাবাহিক দুর্যোগকে বিজ্ঞানীরা ক্যাসকেডিং ডিজাস্টার বা একটির পর একটি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করেন।

ভূমিকম্প কি ধসের ট্রিগার ছিল?

ঘটনার আরেকটি রহস্যের জায়গা এখানেই। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ধসের কয়েক মিনিট আগে ওই এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এই ভূমিকম্প পাহাড় বা বরফের স্তরকে অস্থিতিশীল করে ধসের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বিষয়টি বিজ্ঞানীদের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। যদি ভূমিকম্পটি ধসের ট্রিগার হয়ে থাকে, তাহলে ঘটনাটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক চেইনের উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়. ভূমিকম্প → বরফ-পাথরের অস্থিতিশীলতা → অ্যাভালাঞ্চ → নদী অবরুদ্ধ → আকস্মিক বাঁধ ভাঙা → ফ্ল্যাশ ফ্লাড। চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডেই বদলে গেল নদীর চেহারা সাধারণত পাহাড়ি নদীর পানি দ্রুত প্রবাহিত হয়। কিন্তু ফ্ল্যাশ ফ্লাডের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। এখানে শুধু পানি থাকে না। পানির সঙ্গে মিশে যায় পাহাড়ের মাটি, বিশাল পাথর, গাছপালা, বরফ ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ। ফলে স্রোতের ধ্বংসক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

রাসুয়ার ঘটনায় ঠিক এমনই একটি স্রোত নেমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, নদীর তীরবর্তী স্থাপনার ওপর আচমকা ধেয়ে আসছে ঘন বাদামি রঙের কাদা-পানির স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা স্রোতের নিচে চলে যায়। যে নদী কিছুক্ষণ আগেও স্বাভাবিক ছিল, সেটিই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় ধ্বংসের প্রধান বাহনে।

সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত

রাসুয়া দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা আগে থেকেই সীমিত। তার ওপর বন্যার স্রোতে একাধিক রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থলপথের বড় অংশ অচল হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজের প্রধান ভরসা এখন হেলিকপ্টার। কিন্তু আবহাওয়া, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে অনেক এলাকায় হেলিকপ্টার নামানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যেসব এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন, সেসব জায়গায় পৌঁছাতেই সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে।

৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ঝুঁকিতে

বন্যার আঘাত শুধু মানুষের ঘরবাড়ি বা যোগাযোগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। নেপালের গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। এটি নেপালের মোট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে Rasuwagadhi Hydropower Project, Sanjen Khola এবং Upper Trishuli 3A। হিমালয়ের নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নেপালের বিদ্যুৎ অর্থনীতির জন্য এটি বড় আঘাত। কারণ দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশই পাহাড়ি নদী ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল।

চীনের তিব্বতেও প্রভাব

দুর্যোগের প্রভাব নেপালের সীমান্তেই থেমে থাকেনি। চীনের তিব্বত অঞ্চলের জাইরোং (Gyirong) এলাকাতেও বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব পড়েছে। সীমান্ত যোগাযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এটি কেবল নেপালের স্থানীয় দুর্যোগ নয়; বরং হিমালয়ের একটি আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। একই নদী অববাহিকা, একই পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং একই ধরনের জলবায়ুগত ঝুঁকির কারণে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী একই বিপদের মুখোমুখি।

উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা

নেপাল সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও সেতুর কারণে অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এর মধ্যে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টিও জটিল হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের একটি অংশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করছিলেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে সময় লাগছে। নেপাল সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ও চীনের সহযোগিতা চেয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা

প্রথম ধাক্কা কেটে গেলেই বিপদ শেষ—এমন নিশ্চয়তা নেই। উজানের কোথাও যদি বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের কারণে নতুন করে নদীর প্রবাহ আটকে থাকে, সেটি হঠাৎ ভেঙে গেলে দ্বিতীয় দফায় আরও একটি আকস্মিক বন্যা নেমে আসতে পারে। এই আশঙ্কায় ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে এবং নদীর কাছাকাছি না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।অর্থাৎ উদ্ধারকারীদের একদিকে নিখোঁজদের খুঁজতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদেরও সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার স্রোত থেকে নিরাপদ রাখতে হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন কতটা দায়ী?

নেপালের এই দুর্যোগ আবারও সামনে নিয়ে এসেছে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশের প্রশ্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের বহু অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ছে এবং হিমবাহ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বরফ গলে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী জলাধার তৈরি হতে পারে। এসব জলাধার কখনো কখনো পাথর, বরফ বা ধসের কারণে হঠাৎ ভেঙে গিয়ে নিচের দিকে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। রাসুয়ার বর্তমান দুর্যোগকে সরাসরি শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে ঘোষণা করা এখনই বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক হবে না। এই ঘটনার নির্দিষ্ট ট্রিগার, ভূমিকম্পের ভূমিকা এবং বরফ-পাথরের ধসের প্রকৃতি নিয়ে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। তবে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিমালয়ের বরফ ও হিমবাহের দ্রুত পরিবর্তন যে ভবিষ্যতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

এক বছর আগেও একই নদীতে বিপর্যয়

রাসুয়ার বর্তমান ঘটনা আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে একটি কারণে। ২০২৫ সালের জুলাইয়েও ভুটে কোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই দুর্যোগে রাসুওয়াগাধি ও আশপাশের এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একই নদী অববাহিকায় মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখিয়ে দিল—হিমালয়ের এই অঞ্চল কতটা ভঙ্গুর হয়ে উঠেছে।

সামনে যে প্রশ্নগুলো

নেপালের এই দুর্যোগ শুধু কয়েকটি গ্রাম, কয়েকটি সেতু কিংবা কিছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতির ঘটনা নয়। এটি হিমালয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রশ্নগুলো হলো—

হিমালয়ের প্রত্যন্ত বরফাঞ্চলে ছোট ছোট অস্থায়ী জলাধারগুলোকে কতটা কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে?

কোনো পাহাড় বা হিমবাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে নিচের জনপদকে কত দ্রুত সতর্ক করা সম্ভব?

নেপাল, ভারত ও চীনের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?

স্যাটেলাইটে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করে স্থানীয় মানুষকে আগাম সতর্ক করার ব্যবস্থা কি যথেষ্ট?

এসব প্রশ্নের উত্তর এখন আর কেবল বিজ্ঞানীদের জন্য নয়। হিমালয়ের নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গেও তা সরাসরি জড়িত।

হিমালয়ের সতর্কবার্তা

নেপালের রাসুয়ায় যা ঘটেছে, তা হয়তো কয়েক ঘণ্টার একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কিন্তু এর বার্তা অনেক দীর্ঘস্থায়ী। পাহাড়ের ওপর কয়েক টন বরফ ও পাথরের পতন হয়তো নিচের মানুষ দেখতে পান না। নদীর উজানে কয়েক ঘণ্টা পানি আটকে থাকলেও তা অনেক সময় জনপদের মানুষ জানতে পারেন না। কিন্তু যখন সেই অদৃশ্য বিপদ ভেঙে পড়ে, তখন সতর্ক হওয়ার সময় আর থাকে না। তখন পাহাড় থেকে নেমে আসে শুধু পানি নয়—নেমে আসে বরফ, পাথর, কাদা, গাছ ও ধ্বংসাবশেষের এক অপ্রতিরোধ্য দেয়াল। রাসুয়ার ভয়াবহ দৃশ্য তাই শুধু একটি দেশের দুর্যোগের ছবি নয়; এটি গোটা হিমালয় অঞ্চলের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়তো থামানো সম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক স্যাটেলাইট নজরদারি, নদী ও হিমবাহের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং কার্যকর আন্তঃসীমান্ত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা দিয়ে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

হিমালয়ের পাহাড় হয়তো আগামীকালও থাকবে। নদীও বয়ে যাবে তার নিজস্ব পথে। কিন্তু পাহাড়ের বুকের ভেতর কখন কোথায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে—তা আগেভাগে বুঝতে না পারলে রাসুয়ার মতো দৃশ্য আবারও ফিরে আসতে পারে। আর তখন হয়তো ক্যামেরার সামনে মানুষ দৌড়াবে। কিন্তু পালানোর সময় থাকবে না।##