-- বিজ্ঞাপন ---

আব্দুল এল-সায়েদ: আমেরিকার সিনেটের দরজায় এক মুসলিম চিকিৎসক

কাজী মনসুর#

একজন চিকিৎসক যখন রোগীর হৃদস্পন্দন মাপেন, তখন তিনি শরীরের ভেতরের অসুখের উৎস খোঁজেন। কিন্তু সেই চিকিৎসকই যখন রাজনীতিতে পা রাখেন এবং একটি সমাজের কাঠামোগত ব্যাধি সারানোর পণ করেন, তখন সেটি আর সাধারণ কোনো রাজনৈতিক যাত্রা থাকে না। ২০২৬ সালের মার্কিন রাজনীতিতে ঠিক এমনই এক ব্যতিক্রমী গল্পের জন্ম দিয়েছেন আব্দুল রহমান মোহামেদ এল-সায়েদ, যিনি সাধারণভাবে Abdul El-Sayed নামে পরিচিত। গত ৪ আগস্ট ২০২৬-এ মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে নাটকীয় জয় নিয়ে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত মুখ। চার মেয়াদের কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হয়েছেন। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। এই নির্বাচনে জয়ী হলে এল-সায়েদ হবেন মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য তখন একটি ঐতিহাসিক প্রতিনিধিত্বের ঘটনাতেও পরিণত হবে।

চিকিৎসক থেকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

আব্দুল এল-সায়েদের রাজনৈতিক পরিচয়ের আগে রয়েছে অসাধারণ এক একাডেমিক ও পেশাগত জীবন। ডেট্রয়েট এলাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরীয় বংশোদ্ভূত এই আমেরিকান প্রথমে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়াশোনা করেন। এরপর চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য তাঁর পথ তাঁকে নিয়ে যায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি Rhodes Scholar হিসেবে অক্সফোর্ড থেকে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট এবং Columbia University College of Physicians and Surgeons থেকে MD ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে epidemiology-র অধ্যাপনা ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র ছিল স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে রোগের সম্পর্ক। কিন্তু একসময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন—শুধু গবেষণা করে সমস্যার ব্যাখ্যা নয়, সমস্যার সমাধানের অংশও হতে হবে তাঁকে। সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে ফিরিয়ে আনে নিজের শহর ডেট্রয়েটে।

ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনের দায়িত্ব

২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে এল-সায়েদ ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হন। তখন শহরটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটের মধ্যে ছিল। ডেট্রয়েটের দেউলিয়াত্ব ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পর স্বাস্থ্য বিভাগ কার্যত ভেঙে পড়েছিল তরুণ এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব ছিল সেটিকে নতুন করে দাঁড় করানো। তিনি স্বাস্থ্যকে কেবল হাসপাতাল, ডাক্তার বা ওষুধের বিষয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর দৃষ্টিতে মানুষের স্বাস্থ্য নির্ধারিত হয় আবাসন, আয়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খাদ্য, পরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয় দিয়েও। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

রাজনীতিতে প্রথম বড় পদক্ষেপ

২০১৮ সালে এল-সায়েদ মিশিগানের গভর্নর হওয়ার জন্য ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি হেরে যান, কিন্তু পরাজয় তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়নি। বরং সেই প্রচারণার মাধ্যমে তিনি মিশিগানের progressive বা প্রগতিশীল রাজনীতির একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সেই প্রচারণায় তাঁর পাশে ছিলেন Bernie Sanders এবং Alexandria Ocasio-Cortez-এর মতো জাতীয় পর্যায়ের progressive নেতারা। তখন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, শ্রমজীবী মানুষের আয় ও নিরাপত্তা বাড়ানো এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানো।

২০২৬ সালের Senate campaign-এও তাঁর মূল বার্তা প্রায় একই

Money out of politics. Money in your pocket. Medicare for All. প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ বনাম তৃণমূলের শক্তি। এবারের Michigan Democratic Senate primary-কে সাধারণ একটি দলীয় নির্বাচন বলা কঠিন। একদিকে ছিলেন হ্যালি স্টিভেন্স, চার মেয়াদের কংগ্রেসওম্যান, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত মহলের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী। অন্যদিকে ছিলেন এল-সায়েদ, grassroots campaign, progressive activists, শ্রমিক সংগঠন ও তরুণ ভোটারদের ওপর নির্ভরশীল একজন প্রার্থী। আর এই লড়াইয়ে অর্থের ব্যবধান ছিল বিস্ময়কর।

স্বাধীন রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষক AdImpact-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রাইমারিতে এল-সায়েদের পক্ষে বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭.৪ মিলিয়ন ডলার, বিপরীতে স্টিভেন্সের পক্ষে ব্যয় হয় প্রায় ৬৪.৭ মিলিয়ন ডলার। স্টিভেন্সের পক্ষে AIPAC-এর super PAC-ই ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে ব্যয় করেছিল। অন্য হিসাবেও দেখা যায়, প্রাইমারিতে এল-সায়েদকে ঠেকাতে ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বাইরের অর্থ ব্যয় হয়েছিল। WDET-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে AIPAC-এর super PAC-এর ব্যয় ছিল প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। এ কারণেই এল-সায়েদের বিজয়কে শুধু একজন প্রার্থীর জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এটি হয়ে উঠেছে, “Money vs. Grassroots” অথবা আরও বিস্তৃত অর্থে, “Establishment Politics vs. Progressive Grassroots Politics” এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এল-সায়েদের প্রচারণা প্রাইমারিতে ১০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠিত করার কথা জানিয়েছিল।

AIPAC কেন এই নির্বাচনে এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নির্বাচনের আরেকটি বড় চরিত্র AIPAC—American Israel Public Affairs Committee। ইসরায়েলপন্থী এই শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন ও তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলো হ্যালি স্টিভেন্সের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। এল-সায়েদ ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নীতির কঠোর সমালোচক। ফলে প্রাইমারিটি ধীরে ধীরে শুধু “কে ভালো সিনেটর হবেন”,এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি হয়ে ওঠে, মার্কিন রাজনীতিতে AIPAC-এর প্রভাব কতটা শক্তিশালী এবং grassroots progressive movement তা কতটা চ্যালেঞ্জ করতে পারে, তার পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত এল-সায়েদের জয় AIPAC-এর প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। AP জানিয়েছে, মিশিগান প্রাইমারিতে AIPAC ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর ব্যয় ছিল সংগঠনটির কোনো একক কংগ্রেশনাল প্রাইমারিতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

গাজা, ফিলিস্তিন ও আরব-আমেরিকান ভোট

এল-সায়েদের রাজনৈতিক উত্থান বুঝতে হলে মিশিগানের demographic বাস্তবতাও বুঝতে হবে। ডেট্রয়েট ও আশপাশের এলাকায় বড় Arab-American ও Muslim-American জনগোষ্ঠী রয়েছে। বিশেষ করে Dearborn ও এর আশপাশের এলাকায় গাজা যুদ্ধ মার্কিন রাজনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এল-সায়েদ ইসরায়েলের সামরিক নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও গাজায় মার্কিন নীতির পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই অবস্থান তাঁকে progressive এবং Arab-American ভোটারদের একটি অংশের কাছে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে এটিই তাঁকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত মহলের একটি অংশের কাছে বিতর্কিত করেছে।

Washington Post-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্টিভেন্স গাজা ও ইসরায়েল ইস্যুতে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি; অন্যদিকে এল-সায়েদের campaign এই ইস্যুকে establishment politics ও AIPAC-এর প্রভাবের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।

মুসলিম পরিচয়: শক্তি না রাজনৈতিক বোঝা?

এল-সায়েদের সামনে এখন সবচেয়ে অস্বাভাবিক একটি প্রশ্নও রয়েছে—একজন মুসলিম প্রার্থী কি Michigan-এর মতো swing state-এ Senate election জিততে পারবেন? এল-সায়েদ নিজেই বলেছেন, তাঁর electability নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অনেক সময় তাঁর নাম ও মুসলিম পরিচয়কেই “ভিন্নতা” হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু তাঁর কাছে ধর্ম কেবল পরিচয়ের বিষয় নয়; বরং ব্যক্তিগত নৈতিকতা ও জীবনযাপনের অংশ। তাঁর primary victory-এর পর অবশ্য anti-Muslim rhetoric ও ইসলামফোবিক আক্রমণও বেড়েছে। তাঁর আরবি নাম ও মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণা চলছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকতার সতর্কতা জরুরি, তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো প্রতিটি অভিযোগ সত্য নয়। বিশেষ করে তাঁর ২০২২ সালের একটি বক্তব্যকে ঘিরে “যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন চালু করার” দাবি নিয়ে সাম্প্রতিক fact-check প্রকাশিত হয়েছে; এসব দাবির অনেকটাই বক্তব্যের প্রসঙ্গ বিকৃত করে উপস্থাপনের ফল। অতএব এল-সায়েদকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা—দুটিকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

হাসান পাইকার বিতর্ক

সাম্প্রতিক সময়ে progressive রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার Hasan Piker-কে ঘিরেও এল-সায়েদের campaign চাপে পড়ে। তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এল-সায়েদের সঙ্গে Piker-এর সহযোগিতা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল ও আমেরিকান ইহুদিদের নিয়ে Piker-এর বিতর্কিত মন্তব্যের পর এল-সায়েদ দ্রুত তাঁর বক্তব্য থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। তিনি স্পষ্টভাবে antisemitism-এর নিন্দা করেন এবং জানান, তাঁর campaign-ই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁকে শুধু মুসলিম ও progressive ভোটার নয়, moderate এবং Jewish voters-এর কাছেও গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

Fox News-এ বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার

এর মধ্যেই ২৪ আগস্ট এল-সায়েদ জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে আরও একবার উঠে আসেন। Fox News-এর উপস্থাপক Jesse Watters-এর সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত সাক্ষাৎকারে immigration, healthcare, gender-affirming care এবং শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। Watters তাঁকে minors-এর gender-affirming surgery নিয়ে প্রশ্ন করলে এল-সায়েদ চিকিৎসকের দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের চিকিৎসা সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তিনি Watters-কে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করেন, “Are you circumcised?” এই প্রশ্নের পর সাক্ষাৎকারটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও conservative media-তে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সমর্থকদের কাছে এটি ছিল একজন চিকিৎসকের যুক্তি দিয়ে conservative media host-কে চ্যালেঞ্জ করা। বিরোধীদের কাছে এটি ছিল অপ্রয়োজনীয় ও বিতর্কিত মন্তব্য। অর্থাৎ El-Sayed এখন শুধু নির্বাচনী প্রার্থী নন—তিনি জাতীয় রাজনৈতিক মিডিয়া যুদ্ধেরও একটি বড় চরিত্র।

নভেম্বরের আসল পরীক্ষা

৪ আগস্টের primary victory ছিল এল-সায়েদের জন্য ঐতিহাসিক, কিন্তু সেটিই শেষ কথা নয়। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর সামনে এখন রিপাবলিকান Mike Rogers। এখানেই Michigan-এর “swing state” চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ডেমোক্রেটিক primary-তে তিনি progressive ও grassroots ভোটারদের একত্র করতে পেরেছেন। কিন্তু general election-এ তাঁকে আরও বড় জোট তৈরি করতে হবে। তাঁকে আকৃষ্ট করতে হবে, Democratic voters, Arab-American ও Muslim-American voters, young progressives, working-class voters, Independents, moderate Democrats এবং এমন কিছু swing voters, যারা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে অর্থনীতি ও স্থানীয় ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দেন।

এখানেই তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেবে নভেম্বরের নির্বাচন ১. আমেরিকা কি প্রথম মুসলিম সিনেটর পেতে যাচ্ছে? এল-সায়েদ জয়ী হলে U.S. Senate-এ প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। ২. Progressive politics কি swing state-এ জয়ী হতে পারে? Medicare for All, ধনীদের ওপর বেশি কর, corporate influence কমানো এবং healthcare-কে universal right হিসেবে প্রতিষ্ঠার মতো নীতিগুলো কি Michigan-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারকে আকৃষ্ট করতে পারে—নভেম্বর তার উত্তর দেবে। ৩. অর্থ কি সবসময় রাজনীতিতে জয়ী হয়? এল-সায়েদের primary victory এই ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করা যায়। তাঁর campaign-এর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তাই ছিল—“Michigan is not for sale.”

এখন নভেম্বরের নির্বাচন সেই বার্তার দ্বিতীয় পরীক্ষা

স্টেথোস্কোপ থেকে ক্যাপিটল হিল আব্দুল এল-সায়েদের রাজনৈতিক গল্প তাই শুধু একজন মুসলিম আমেরিকানের Senate-এ যাওয়ার গল্প নয়। এটি একজন চিকিৎসকের গল্প, যিনি প্রথমে মানুষের শরীরের অসুখ বোঝার চেষ্টা করেছেন, তারপর ডেট্রয়েটের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভাঙন মেরামত করেছেন, এরপর বুঝেছেন যে অনেক রোগের উৎস হাসপাতালের বাইরে—সমাজের অর্থনীতি, দারিদ্র্য, বৈষম্য, রাজনীতি এবং ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে। ২০১৮ সালে গভর্নর হওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা থেকে ২০২৬ সালের Senate nomination এই পথটি সরল ছিল না। কিন্তু ৪ আগস্টের বিজয়ের পর তিনি এখন এমন একটি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, যে দরজা খুললে শুধু তাঁর নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারই বদলাবে না।

বদলে যেতে পারে আমেরিকান মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসও

নভেম্বরের ভোট তাই শুধু Michigan-এর একটি Senate seat-এর জন্য নির্বাচন নয়। এটি হতে পারে, প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির বিরুদ্ধে grassroots শক্তির পরীক্ষা, progressive America বনাম establishment Democrats-এর পরীক্ষা, Gaza ও Israel নিয়ে বদলে যাওয়া Democratic electorate-এর পরীক্ষা, এবং সর্বোপরি, একজন মুসলিম আমেরিকান চিকিৎসক সত্যিই কি United States Senate-এর দরজা খুলতে পারেন—তার ঐতিহাসিক পরীক্ষা।

স্টেথোস্কোপ থেকে ক্যাপিটল হিল—আব্দুল এল-সায়েদের যাত্রা এখন আর কেবল ব্যক্তিগত স্বপ্নের গল্প নয়। এটি আমেরিকার বদলে যাওয়া রাজনীতির একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।##