কাজী মনসুর/সিরাজুর রহমান#
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আলুখেতের দৃশ্য সম্প্রতি যেন জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতার এক অস্বাভাবিক প্রতীক হয়ে উঠেছে। মাটির নিচে থাকা আলু তীব্র তাপের প্রভাবে নরম হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেগুলোকে দেখে মনে হচ্ছে যেন মাঠের মাটির নিচেই সেদ্ধ হয়ে গেছে। ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো কৃষি-সমস্যা হিসেবে দেখলে হয়তো এর গভীরতা বোঝা যাবে না। কিন্তু বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এটি পৃথিবীর বদলে যাওয়া আবহাওয়ার একটি সতর্ক সংকেত হিসেবেই সামনে আসে।
কারণ, শুধু দক্ষিণ কোরিয়া নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ আঘাত হানছে। কোথাও তাপমাত্রা পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে, কোথাও দাবানল গ্রাস করছে বিস্তীর্ণ বনভূমি, আবার কোথাও অতিরিক্ত তাপ ও খরার কারণে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে মানুষের অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। এ যেন কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়; বরং পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর একের পর এক চাপের বহিঃপ্রকাশ।
পৃথিবী কি তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারাচ্ছে?
পৃথিবীর জলবায়ু সব সময়ই পরিবর্তিত হয়েছে। বরফযুগ এসেছে, উষ্ণ সময় এসেছে, সমুদ্রের উচ্চতা উঠেছে-নেমেছে, মহাদেশের অবস্থান বদলেছে। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এর গতি এবং এর পেছনে মানুষের ভূমিকা।
শিল্পবিপ্লবের পর থেকে কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বাড়িয়েছে। একই সময়ে ব্যাপক বন উজাড়, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং কৃষি ও অন্যান্য মানবিক কর্মকাণ্ড পৃথিবীর প্রাকৃতিক কার্বন-চক্র ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গেলে পৃথিবী থেকে মহাশূন্যে তাপ বিকিরণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। আর সেই উষ্ণায়নের প্রভাব শুধু থার্মোমিটারের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন, দাবানল এবং কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ। অর্থাৎ, জলবায়ু পরিবর্তন কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়। এটি একটি আন্তঃসংযুক্ত বৈশ্বিক সংকট।
পাঁচবার পৃথিবী দেখেছে মহাবিলুপ্তি
পৃথিবীতে প্রাণের ইতিহাস যত পুরোনো, বিলুপ্তির ইতিহাসও প্রায় ততটাই দীর্ঘ। কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের পথে অসংখ্য প্রজাতি জন্ম নিয়েছে এবং বিলুপ্ত হয়েছে। তবে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্তত পাঁচটি সময়কে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে চিহ্নিত করেন, যখন তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক প্রজাতি পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়। এগুলোই পরিচিত ‘ম্যাস এক্সটিঙ্কশন’ বা গণবিলুপ্তি হিসেবে।
প্রথম দিকের এসব মহাবিলুপ্তির কারণ ছিল নানা ধরনের প্রাকৃতিক পরিবর্তন, ব্যাপক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, সমুদ্রের রাসায়নিক পরিবর্তন, অক্সিজেনের ঘাটতি, দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা মহাজাগতিক কোনো ঘটনার প্রভাব। সবচেয়ে পরিচিত হলো প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে সংঘটিত ক্রিটেশিয়াস-প্যালিওজিন গণবিলুপ্তি। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১০ কিলোমিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণু বর্তমান মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপের কাছে আঘাত হানার পর পৃথিবীর পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ধুলা ও অন্যান্য পদার্থ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত করে; খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর সবচেয়ে আলোচিত শিকার ছিল অ-পাখি ডাইনোসর। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গণবিলুপ্তি পৃথিবীর জীবনের সম্পূর্ণ সমাপ্তি ঘটায়নি। বরং প্রতিটি বড় বিলুপ্তির পর বেঁচে থাকা প্রাণী ও উদ্ভিদ নতুন পরিবেশে বিবর্তিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে গড়ে উঠেছে নতুন বাস্তুতন্ত্র, নতুন প্রজাতি এবং নতুন জীববৈচিত্র্য।
মানুষও সেই দীর্ঘ বিবর্তনেরই একটি অংশ।
এবার কি বিপদটি মানুষের তৈরি? এখানেই বর্তমান সংকট অতীতের গণবিলুপ্তিগুলোর তুলনায় সবচেয়ে আলাদা। পৃথিবীর অতীতের মহাবিলুপ্তিগুলো মূলত প্রাকৃতিক বা মহাজাগতিক কারণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে জীববৈচিত্র্যের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তার বড় একটি অংশ সরাসরি মানুষের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। বন উজাড় হচ্ছে। নদী ও জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। সমুদ্র দূষিত হচ্ছে। কৃষি ও নগরায়ণের জন্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। অতিরিক্ত শিকার ও অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বহু প্রাণীকে বিপন্ন করছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। একটি প্রজাতি শুধু নিজে হারিয়ে যায় না; তার সঙ্গে একটি খাদ্যশৃঙ্খল, একটি বাস্তুতন্ত্র এবং কখনো কখনো বহু আন্তঃনির্ভরশীল প্রাণী ও উদ্ভিদের অস্তিত্বও বিপন্ন হয়ে পড়ে। এই কারণেই জীববিজ্ঞানীরা বর্তমান সময়কে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।
‘ষষ্ঠ গণবিলুপ্তি’ কতটা বাস্তব?
বিজ্ঞানী ও গবেষকদের একটি অংশ বর্তমান সময়ের দ্রুতগতির প্রজাতি বিলুপ্তি ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসকে সম্ভাব্য ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সতর্কতা রয়েছে। এখনো পৃথিবী আনুষ্ঠানিকভাবে ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, এমন ঘোষণা সর্বসম্মত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নয়। বরং বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, প্রজাতি বিলুপ্তির হার স্বাভাবিক পটভূমিগত হারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বহু প্রজাতি দ্রুত বিপন্ন হয়ে পড়ছে। অর্থাৎ প্রশ্নটি শুধু ‘ষষ্ঠ গণবিলুপ্তি শুরু হয়েছে কি না’, এখানেই আটকে নেই। আরও বড় প্রশ্ন হলো, মানুষ কি এমন একটি পরিবেশগত পরিবর্তন তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে সত্যিকারের গণবিলুপ্তিতে রূপ নিতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরই সম্ভবত আগামী কয়েক দশকের পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বন হারালে শুধু গাছ হারায় না
জলবায়ু সংকটের সঙ্গে বন উজাড়ের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বন পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্বন শোষণকারী ব্যবস্থা। গাছপালা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং কার্বনকে জীবদেহ ও মাটিতে ধরে রাখে। ফলে বন ধ্বংস হলে একদিকে কার্বন শোষণের সক্ষমতা কমে যায়, অন্যদিকে গাছ ও মাটিতে সঞ্চিত কার্বনের একটি অংশ বায়ুমণ্ডলে ফিরে যেতে পারে।
গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রাথমিক বনভূমি হারিয়ে যায়। ব্রাজিল, কঙ্গো অববাহিকা ও বলিভিয়াসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলগুলো এই ক্ষতির বড় অংশ বহন করেছে। বন উজাড়ের প্রভাব শুধু কার্বন নিঃসরণে সীমাবদ্ধ নয়। একটি বন হলো অসংখ্য প্রাণী, পাখি, কীটপতঙ্গ, ছত্রাক ও উদ্ভিদের আবাসস্থল। একটি বন ধ্বংসের অর্থ হলো সেই বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল বহু প্রজাতির জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া। কোনো কোনো প্রজাতি হয়তো নতুন জায়গায় চলে যেতে পারে। কিন্তু অনেক প্রজাতির সেই সুযোগ নেই। ফলে বন উজাড় একসঙ্গে দুটি সংকট তৈরি করে, জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে।
তাপপ্রবাহ কি ভবিষ্যতের নতুন স্বাভাবিকতা?
তীব্র তাপপ্রবাহ এখন আর কেবল মরুভূমি বা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের ঘটনা নয়। বিশ্বের অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চলগুলোতেও অস্বাভাবিক গরমের ঘটনা বাড়ছে। মানুষের শরীরেরও তাপ সহ্য করার একটি সীমা রয়েছে। অতিরিক্ত গরমে ডিহাইড্রেশন, হিট এক্সহসশন এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ, বাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
কৃষিতেও এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
মাটির নিচে থাকা আলু তীব্র গরমে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা তাই নিছক একটি অদ্ভুত কৃষি-দৃশ্য নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যে তাপমাত্রায় মানুষ কোনোভাবে মানিয়ে নিতে পারে, সেই একই তাপমাত্রা একটি ফসলের জীবনচক্রকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। একই ঘটনা যদি বড় পরিসরে ঘটে, তাহলে খাদ্য উৎপাদন, বাজার, কৃষকের আয় এবং খাদ্যনিরাপত্তা, সবকিছুর ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
শুধু প্রাণী নয়, মানুষও একই বাস্তুতন্ত্রের অংশ
মানুষ অনেক সময় মনে করে প্রকৃতি আলাদা আর মানুষ আলাদা। বাস্তবে এই বিভাজনটি কৃত্রিম। মানুষের খাদ্য আসে মাটি, পানি, উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে। কৃষি নির্ভর করে পরাগায়নকারী কীটপতঙ্গ, উর্বর মাটি এবং পর্যাপ্ত পানির ওপর। নদী ও জলাভূমি শুধু মাছের আবাস নয়; এগুলো মানুষের পানি, কৃষি এবং জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। বন শুধু কাঠের উৎস নয়; এটি বৃষ্টিপাত, মাটি, জলপ্রবাহ এবং জলবায়ু ব্যবস্থার অংশ। ফলে কোনো একটি বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের ঘরেও পৌঁছায়।আজ যে প্রজাতিটিকে অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে, আগামীকাল হয়তো জানা যাবে তার বিলুপ্তির সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশৃঙ্খল বা পরিবেশগত প্রক্রিয়াও দুর্বল হয়ে গেছে। প্রকৃতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ‘কোনো প্রাণীই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়’।
এখনও কি ফেরার পথ আছে?
আশার জায়গাটিও এখানেই। পৃথিবী এখনও ধ্বংস হয়ে যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে, জীববৈচিত্র্য কমছে, কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডই যেহেতু সংকটের অন্যতম প্রধান চালক, তাই মানুষের কর্মকাণ্ড দিয়েই এর গতি কমানো সম্ভব। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার, জলাভূমি রক্ষা, টেকসই কৃষি, সমুদ্র ও নদী রক্ষা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং অপ্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ কমানো, সবকিছুই এই লড়াইয়ের অংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু পরিবেশের সমস্যা হিসেবে না দেখে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, খাদ্য, নিরাপত্তা এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যতের সমস্যা হিসেবে দেখা।
শেষ প্রশ্নটি মানুষের জন্য
পৃথিবী এর আগেও বহুবার ভয়াবহ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। পাঁচটি বড় গণবিলুপ্তির পরও জীবন ফিরে এসেছে। নতুন প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। নতুন বাস্তুতন্ত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই ইতিহাসের একটি কঠিন সত্য হলো, প্রকৃতি হয়তো টিকে থাকবে, কিন্তু প্রতিটি প্রজাতি টিকে থাকবে না। পৃথিবী মানুষের জন্য কতটা উপযোগী থাকবে, সেটিই আসল প্রশ্ন। ষষ্ঠ গণবিলুপ্তি সত্যিই শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে আরও গবেষণা ও বিতর্ক চলতে পারে। কিন্তু জীববৈচিত্র্য হ্রাস, বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বদলে যাওয়া পরিবেশ, এসব বাস্তবতা নিয়ে আর কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার মাটির নিচে নরম হয়ে যাওয়া একটি আলু হয়তো পৃথিবীর শেষের কোনো লক্ষণ নয়। কিন্তু সেটি আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, পৃথিবীর পরিবেশ যদি এমনভাবে বদলে যায় যে মাটির নিচের একটি ফসলও নিজের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় টিকে থাকতে না পারে, তাহলে সেই পৃথিবীতে মানুষের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ? প্রকৃতি হয়তো শেষ পর্যন্ত নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নেবে। কিন্তু সেই নতুন পৃথিবীতে মানুষ থাকবে কি না, সিদ্ধান্তটি অনেকাংশেই আজকের মানুষের হাতে।##

