-- বিজ্ঞাপন ---

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা কেন উঠছে,কেন বাড়ছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি, কীসের আশঙ্কায় সতর্ক বিশ্ব?

কাজী আবুল মনসুর#

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ চলছে। কোথাও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হচ্ছে নগর, কোথাও সামরিক উত্তেজনায় অস্থির হয়ে উঠছে সীমান্ত, আবার কোথাও পরাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্য, জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নাগরিকদের খাদ্য, পানি ও জরুরি সামগ্রী মজুদ রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। সামরিক ঘাঁটিকে দীর্ঘ সময় স্বনির্ভর রাখার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়ছে জ্বালানি, খাদ্য ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ।

এসব ঘটনা কি কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু প্রস্তুতি, নাকি বিশ্ব এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকটের আশঙ্কাকে আর উপেক্ষা করা যাচ্ছে না? আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আলোচনায় এখন ঘুরেফিরে আসছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসঙ্গ। তবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বযুদ্ধের কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। বরং একাধিক আঞ্চলিক সংঘাত, পরাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বিশ্বকে আরও সতর্ক করে তুলছে।

একই সময়ে কেন জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশনা দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ?

যুক্তরাজ্য গত ২২ অক্টোবর ‘বি রেডি’ (Be Ready) প্রচারাভিযানের মাধ্যমে নাগরিকদের অন্তত তিন দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পানীয় জল, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, টর্চ, ব্যাটারি ও নগদ অর্থ।

জাপানের নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাও ২ নভেম্বর নাগরিকদের অন্তত তিন দিনের, সম্ভব হলে এক সপ্তাহের খাদ্য ও পানি মজুদ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির নানকাই ট্রাফ অঞ্চলে সম্ভাব্য শক্তিশালী ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এ উদ্যোগের অন্যতম কারণ।

ইউরোপের কয়েকটি দেশেও একই ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সুইডেন, নরওয়ে ও এস্তোনিয়ায় অন্তত এক সপ্তাহের জরুরি সরবরাহ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। জার্মানিতে ১০ দিন এবং অস্ট্রিয়ায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণের সুপারিশ রয়েছে। বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসও জরুরি পরিস্থিতিতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বনির্ভর থাকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এসব নির্দেশনার সবগুলো যুদ্ধের জন্য নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, সাইবার হামলা, যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়া কিংবা খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও এর বিবেচনায় রয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রগুলো এখন বুঝতে পারছে, আধুনিক সংকটে শুধু সেনাবাহিনী দিয়ে একটি দেশকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। সাধারণ নাগরিক, খাদ্য সরবরাহ, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোপের উদ্বেগের কেন্দ্রে রাশিয়া-ন্যাটো সমীকরণ

ইউরোপের দেশগুলোর প্রস্তুতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক কারণগুলোর একটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য না হলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো কিয়েভকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে রাশিয়া ন্যাটোর সম্প্রসারণ ও ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক সহায়তাকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। এতে সংঘাতের পরিধি সরাসরি রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনায় বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে বাল্টিক অঞ্চল, পোল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনায় রাশিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদান ইউরোপের সামরিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন এনেছে। একসময় সামরিক জোটের বাইরে থাকা এই দুই নর্ডিক দেশ এখন ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ। সুইডেনে প্রায় ৬৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফিনল্যান্ডও খাদ্য নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয়কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা সচল রাখার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। ইউরোপের দেশগুলোর উদ্বেগের মূল জায়গা হলো, ইউক্রেনের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে কিংবা রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত তৈরি হলে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। তবে এই আশঙ্কা থেকেই যে এমন সংঘাত ঘটবে, তা বলা যায় না। বরং সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও নাগরিক প্রস্তুতি বাড়ানো হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য: একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাব কেন বিশ্বজুড়ে?

মধ্যপ্রাচ্য এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, লেবানন ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই অঞ্চলকে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা এবং সুয়েজ খালকেন্দ্রিক নৌপরিবহন ঝুঁকির কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও ব্যয় তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধরত দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। জ্বালানি, খাদ্য, সার, পরিবহন এবং শিল্প উৎপাদনের মাধ্যমে তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা: আরেকটি বড় অনিশ্চয়তা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বাইরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগের কারণ। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে। অন্যদিকে তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। তাইওয়ান প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক হতে পারে। কারণ তাইওয়ান উন্নত সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আধুনিক কম্পিউটার, স্মার্টফোন, গাড়ি, সামরিক প্রযুক্তি থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো,বিভিন্ন খাত এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাইওয়ানকে ঘিরে কোনো বড় সংঘাত শুধু সামরিক সংকট তৈরি করবে না, বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ও উৎপাদনব্যবস্থাকেও বিপর্যস্ত করতে পারে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি সংঘাত এড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করছে।

যুদ্ধ ছাড়াও অর্থনৈতিক বিপর্যয় কেন ঘটতে পারে?

বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতা হলো, দেশগুলো পরস্পরের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। একটি অঞ্চলের যুদ্ধ অন্য অঞ্চলের উৎপাদন, পরিবহন ও বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্বব্যাংকের জুন ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ২ দশমিক ৯ শতাংশের চেয়ে কম। অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, সারের দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্য পরিবহনে সমস্যা হলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যবাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব কয়েকটি ধাপে সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছায়। প্রথমে জ্বালানির দাম বাড়ে, এরপর পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। কৃষিতে সার ও জ্বালানির খরচ বাড়লে খাদ্য উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে বাজারদর ও মূল্যস্ফীতিতে। এ কারণে কোনো দেশে যুদ্ধ না হলেও আন্তর্জাতিক সংঘাতের অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে অন্য দেশের সাধারণ মানুষকে।

খাদ্য মজুদ কি আসন্ন যুদ্ধের সংকেত?

এই প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে খাদ্য মজুদকে শুধু যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, সাইবার হামলা কিংবা আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার অচলাবস্থার মতো পরিস্থিতিতে খাদ্য মজুদ একটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা। যুক্তরাজ্যের তিন দিনের প্রস্তুতি, জাপানের এক সপ্তাহের খাদ্য ও পানির পরামর্শ কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা মূলত জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত মানুষকে স্বনির্ভর রাখার কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে দীর্ঘ সময় বাইরের সরবরাহ ছাড়াই সচল রাখার পরিকল্পনাও একই ধরনের বৃহত্তর নিরাপত্তা চিন্তার প্রতিফলন। অর্থাৎ রাষ্ট্রগুলো এখন শুধু যুদ্ধের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে না; বরং যেকোনো বড় বিপর্যয়ে নিজেদের মৌলিক সেবা সচল রাখার সক্ষমতা তৈরি করছে।

বাংলাদেশ কি এই ঝুঁকির বাইরে?

বাংলাদেশ সরাসরি ইউরোপের সামরিক সংঘাত কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রের অংশ নয়। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে এসব ঘটনার প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ জ্বালানি, ভোজ্যতেল, গম, সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে। একইভাবে খাদ্য ও সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষি ও বাজারব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো খাদ্য ও জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ, আমদানির বিকল্প উৎস, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি সত্যিই আসছে?

বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন,এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আলাদা আলাদা ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। এগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে অনিবার্য বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাস দেওয়া দায়িত্বশীল বিশ্লেষণ হবে না। তবে একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই, বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ঝুঁকি বেড়েছে। একটি অঞ্চলের সংঘাত অন্য অঞ্চলের জ্বালানি, খাদ্য, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই বাস্তবতা থেকেই বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা ও নাগরিক প্রস্তুতিকে নতুন করে সাজাচ্ছে।

সুতরাং প্রশ্নটি শুধু তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে কি না, তা নয়। বরং যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মতো যেকোনো বড় সংকটের মুখে একটি দেশ কতটা স্থিতিশীল থাকতে পারবে, সেটিই এখন রাষ্ট্রগুলোর জন্য বড় পরীক্ষা। বিশ্ব হয়তো আসন্ন কোনো একটি যুদ্ধের জন্য নয়, বরং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের একাধিক সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।##