কাজী মনসুর/সিরাজুর রহমান#
যে দেশকে একদিকে বৈদেশিক ঋণ, অর্থনৈতিক সংস্কার, IMF-এর শর্ত এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামলাতে হচ্ছে, সেই পাকিস্তানই অন্যদিকে প্রস্তুতি নিচ্ছে মহাকাশে তার প্রথম নভোচারী পাঠানোর। পৃথিবীর মাটিতে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেই পাকিস্তানের দুই সামরিক পাইলট এখন চীনে কঠোর নভোচারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁদের একজন খুব শিগগিরই পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে পা রাখার সুযোগ পেতে পারেন। বিষয়টি শুনতে যতটা বিস্ময়কর, এর পেছনের হিসাবটা ততটাই বাস্তব। কারণ পাকিস্তান একা এই অভিযান পরিচালনা করছে না; চীনের বিশাল মহাকাশ অবকাঠামোর সঙ্গে নিজেদের বিজ্ঞান, গবেষণা ও মানবসম্পদকে যুক্ত করেই এগোচ্ছে ইসলামাবাদ। আর সেখানেই প্রশ্ন উঠছে—অর্থনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে থাকা একটি দেশ কীভাবে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর পর্যায়ে পৌঁছে গেল? উত্তর খুঁজতে হলে পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি ফিরে তাকাতে হবে তার মহাকাশ কর্মসূচির দীর্ঘ ইতিহাসের দিকে।
২০২৬ সালেও পাকিস্তানের অর্থনীতি নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে চলমান কর্মসূচির আওতায় দেশটিকে রাজস্ব বাড়ানো, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। সরকারি ঋণও অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে আছে। IMF-এর হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের সরকারি ঋণ GDP-এর প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় এমন অনেক খাত রয়েছে যেখানে প্রতিটি বড় ব্যয়ের হিসাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই সময়েই পাকিস্তান মহাকাশ গবেষণায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে,পাকিস্তান নিজের অর্থে তিয়ানগংয়ের মতো মহাকাশ স্টেশন তৈরি করছে না, নিজের মানববাহী মহাকাশযানও তৈরি করছে না এবং নিজস্ব রকেটে নভোচারী পাঠানোর পূর্ণ সক্ষমতাও তার নেই। বরং চীনের মহাকাশ অবকাঠামো ব্যবহার করে পাকিস্তান তার বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করছে। ফলে যে অর্থনৈতিক সক্ষমতা দিয়ে একটি দেশ স্বাধীনভাবে মানব মহাকাশ কর্মসূচি চালাতে পারে না, অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সেই দেশই সীমিত ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার দরজায় প্রবেশ করতে পারছে।
এই পরিকল্পনার সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ এখন চীনে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তানের দুই সামরিক পাইলট, জিশান আলী ও খুররাম দাউদ। পাকিস্তানের মহাকাশ সংস্থা SUPARCO-র কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা বেইজিংয়ের China Astronaut Research and Training Center-এ কয়েক মাস ধরে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নভোচারী হওয়ার প্রস্তুতি কেবল বিমান চালানোর দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না; মহাকাশযাত্রায় শরীরের ওপর প্রচণ্ড চাপ, ওজনহীন পরিবেশে কাজ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, মহাকাশযানের বিভিন্ন ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক ক্রুদের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো বিষয়ও আয়ত্ত করতে হয়। এমনকি চীনা ভাষাতেও তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, কারণ ভবিষ্যৎ মিশনে চীনা মহাকাশচারীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে হবে। এখন এই দুই পাইলটের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে সেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। নির্বাচিত ব্যক্তি শুধু পাকিস্তানের প্রথম নভোচারীই হবেন না, তিনি পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণাকে সরাসরি চীনের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করবেন।
তবে নির্বাচিত পাকিস্তানি মহাকাশচারীর দায়িত্ব হবে না তিয়ানগংয়ের মূল কমান্ড নেওয়া কিংবা মহাকাশযান পরিচালনা করা। তিনি সেখানে যাবেন ‘পেলোড স্পেশালিস্ট’ হিসেবে। অর্থাৎ তাঁর প্রধান দায়িত্ব হবে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করা এবং পাকিস্তানের নির্বাচিত গবেষণা প্রকল্পে অংশ নেওয়া। এ কারণেই এই অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়তো মহাকাশে যাওয়া মানুষটি নন; বরং তাঁর সঙ্গে মহাকাশে যাওয়া গবেষণা। পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন শতাধিক গবেষণা প্রস্তাব পাওয়ার পর সেগুলোর মধ্য থেকে চারটি গবেষণা নির্বাচন করা হয়েছে। এসব গবেষণার বড় অংশ জীবপ্রযুক্তি নিয়ে। মহাকাশের বিশেষ পরিবেশে জীববৈজ্ঞানিক পরিবর্তন কীভাবে ঘটে এবং সেই জ্ঞান পৃথিবীর খাদ্য উৎপাদন, কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যায় ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেসব বিষয় নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে পাকিস্তানের প্রথম মানব মহাকাশ মিশন শুধু জাতীয় মর্যাদার বিষয় হয়ে থাকছে না; এর সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
এখানে আবার পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বাস্তবতা সামনে চলে আসে। একটি দেশের জন্য মহাকাশ কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি মানববাহী মহাকাশযান তৈরি, নভোচারী প্রশিক্ষণ, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, মহাকাশ স্টেশন এবং পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো মহাকাশশক্তিগুলোও এই সক্ষমতা তৈরি করতে কয়েক দশক ধরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো একা তৈরি করা সহজ নয়। তাই ইসলামাবাদ যে পথটি বেছে নিয়েছে তা হলো, যেখানে চীনের অবকাঠামো প্রস্তুত, সেখানে নিজের গবেষণা, বিজ্ঞানী ও নির্বাচিত নভোচারীকে যুক্ত করা। এর ফলে পাকিস্তানকে একটি পূর্ণাঙ্গ মানব মহাকাশ কর্মসূচির সবকিছু শূন্য থেকে তৈরি করতে হচ্ছে না। মহাকাশ গবেষণায় প্রবেশের এই মডেলই পাকিস্তানের জন্য তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করেছে।
পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচির শিকড় অবশ্য আজকের নয়। ১৯৬১ সালে করাচিতে Space and Upper Atmosphere Research Commission বা SUPARCO প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশটির আনুষ্ঠানিক মহাকাশ গবেষণার যাত্রা শুরু হয়। সে সময় পাকিস্তান ছিল বিশ্বের অল্প কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের একটি, যারা উচ্চ-বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশ গবেষণাকে জাতীয় বৈজ্ঞানিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে রকেট উৎক্ষেপণ, উচ্চ-উচ্চতার বায়ুমণ্ডল এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ, আবহাওয়া, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মহাকাশভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের দিকে কর্মসূচি বিস্তৃত হয়। ১৯৮১ সালে SUPARCO একটি স্বাধীন কমিশনের কাঠামো পায়। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়।
কিন্তু পাকিস্তানের মহাকাশ অভিযাত্রায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ার পর। পাকিস্তানের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে চীনা রকেট ব্যবহৃত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মহাকাশ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্যাটেলাইট পাঠানো থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা ও মানব মহাকাশযাত্রা পর্যন্ত সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ছে। ২০১৯ সালে দুই দেশ মানব মহাকাশযাত্রা নিয়ে সহযোগিতার পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়। এরপর ধাপে ধাপে সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে। এখন সেই ধারাবাহিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পাকিস্তানের একজন নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি।
তিয়ানগং চীনের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন। পৃথিবীর কক্ষপথে কয়েকশ কিলোমিটার ওপরে ঘুরতে থাকা এই স্টেশনটি চীনের দীর্ঘমেয়াদি মানব মহাকাশ কর্মসূচির কেন্দ্র। সেখানে মহাকাশচারীরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ খুব কম অনুভূত হয় এমন পরিবেশে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। সেই গবেষণাগারে এবার পাকিস্তানি গবেষণার জন্যও জায়গা তৈরি হচ্ছে। ফলে পাকিস্তানের জন্য এটি কেবল একজন নভোচারীকে মহাকাশে পাঠানোর সুযোগ নয়; দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞানীদের জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার একটি নতুন দরজা।
চীনের সঙ্গে এই সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। মহাকাশ এখন শুধু বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্র নয়; এটি যোগাযোগ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি, নেভিগেশন, সামরিক সক্ষমতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। যে দেশ মহাকাশ প্রযুক্তিতে যত বেশি দক্ষ হয়, তার স্যাটেলাইট-নির্ভর সক্ষমতাও তত বাড়ে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে যোগাযোগ ও পৃথিবী পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে কাজ করছে। তাই তিয়ানগং মিশনকে তার বৃহত্তর মহাকাশ সক্ষমতা তৈরির একটি অংশ হিসেবেও দেখা যায়।
তবে ইসলামাবাদের দৃষ্টি শুধু পৃথিবীর কক্ষপথে আটকে নেই। সামনে রয়েছে চাঁদ। চীনের Chang’e-8 চন্দ্রাভিযানের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি রোভার পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের এই রোভার চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে গবেষণার কাজে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনায় রয়েছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরু বর্তমানে বিশ্বের প্রধান মহাকাশ শক্তিগুলোর কাছে বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্র। সেখানে বরফ বা পানির উপস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ চন্দ্রঘাঁটি স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। সেই অঞ্চলে একটি পাকিস্তানি রোভার পাঠানোর সুযোগ দেশটির জন্য তাই প্রতীকী গুরুত্বের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক গুরুত্বও বহন করবে।
এখন পুরো বিষয়টিকে যদি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বাস্তবতার পাশে রেখে দেখা হয়, তাহলে একটি বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে IMF-এর কর্মসূচি, ঋণের চাপ, রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ; অন্যদিকে মহাকাশ গবেষণা, তিয়ানগংয়ে নভোচারী, জীবপ্রযুক্তি পরীক্ষা এবং চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে রোভার পাঠানোর পরিকল্পনা। কিন্তু এই বৈপরীত্যের অর্থ এই নয় যে পাকিস্তান তার অর্থনৈতিক সমস্যার কথা ভুলে গিয়ে মহাকাশে বিপুল অর্থ ঢালছে। বরং পাকিস্তান এমন একটি পথ বেছে নিয়েছে যেখানে চীনের প্রযুক্তি, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও মহাকাশ অবকাঠামোকে ব্যবহার করে নিজের সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ মহাকাশে পৌঁছানোর জন্য সবকিছু নিজে তৈরি করার পরিবর্তে অংশীদারিত্বকে ব্যবহার করছে পাকিস্তান।
এখানেই পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা একটি দেশকে সব ক্ষেত্রে সমান গতিতে এগোতে দেয় না। কিন্তু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কোনো কোনো প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য দেশের অবকাঠামো ও দক্ষতা ব্যবহার করা যায়। পাকিস্তান-চীন মহাকাশ সহযোগিতা সেই পথের একটি উদাহরণ। পাকিস্তানের প্রথম নভোচারী যখন তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাবেন, তখন তাঁর সঙ্গে শুধু পাকিস্তানের পতাকাই থাকবে না; থাকবে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচিত গবেষণা। আর কয়েক বছর পর যদি পাকিস্তানি রোভার চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে সেই যাত্রার পেছনেও থাকবে একই সহযোগিতার কাঠামো।
তাই প্রশ্নটি আর শুধু ‘পাকিস্তান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও কীভাবে নভোচারী পাঠাচ্ছে’—এতটা সরল নয়। বরং বড় প্রশ্ন হলো, নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ মানব মহাকাশ কর্মসূচি তৈরির সামর্থ্য না থাকলেও একটি দেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশ গবেষণায় নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারে? পাকিস্তান এখন সেই প্রশ্নের একটি বাস্তব উত্তর তৈরি করার চেষ্টা করছে। পৃথিবীর মাটিতে অর্থনৈতিক চাপ যতই থাকুক, মহাকাশের দরজা তার জন্য পুরোপুরি বন্ধ নয়—চীনের তিয়ানগং সেই দরজার প্রথম বড় প্রবেশপথ, আর চাঁদের দক্ষিণ মেরু হতে পারে পরবর্তী গন্তব্য।##

