সিরাজুর রহমান#
সাম্প্রতিক সময়ের চীনের নির্মিত বিশ্বের বৃহত্তম সৌরশক্তি চালিত বা এনার্জি সহায়ক গাড়িবাহী জাহাজ “এমভি টিয়ানজিন” (MV Tianjin) সফলভাবে প্রায় ৪ হাজার গাড়ি নিয়ে প্রায় ১২,০০০ কিলোমিটার দুরত্ব অতিক্রম করে গ্রিসের পাইরেউস বন্দরে পৌঁছেছে। এটি ছিল জাহাজটির প্রথম সফল বাণিজ্যিক যাত্রা।
এই অত্যাধুনিক গাড়িবাহী কার্গো জাহাজের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯৯.৯ মিটার এবং প্রস্থ ৩৮ মিটার। এর মোট ১২টি ডেকে একসাথে সর্বোচ্চ ৭,০০০ গাড়ি পরিবহনের উপযোগী করে ডিজাইন ও তৈরি করা হয়েছে।
এই গ্রিন এনার্জি চালিত জাহাজটি ডিজাইন ও তৈরি করেছে চীনের বিখ্যাত জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশন (CSSC) এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান Guangzhou Shipyard International Company Limited (GSI)।
এটি অদূর ভবিষ্যতে গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে। এটি আন্তর্জাতিক IMO (International Maritime Organization)-এর ২০৩০ ও ২০৫০ সালের কার্বন নির্গমন হ্রাস লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হয়।
গ্রিন এনার্জি প্রযুক্তির অগ্রদূত”এমভি টিয়ানজিন” (MV Tianjin) কিন্তু সম্পূর্ণরূপে বা শতভাগ সৌরচালিত জাহাজ নয়, বরং এটি একটি গ্রিন এনার্জি–সহায়ক হাইব্রিড কার্গো জাহাজ। এর ডেকে বসানো হয়েছে ৩০২.৮ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সিলিকন সোলার প্যানেল, যা বছরে আনুমানিক ৪,১০,০০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।
এই সৌরশক্তি মূলত জাহাজের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎচালিত প্রযুক্তি ব্যবস্থা—যেমন: লাইটিং, কন্ট্রোল সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয়তা ও অন্যান্য প্রযুক্তি চালনায় ব্যবহৃত হয়। যা এটিকে এনার্জি সংরক্ষণ ও অপচয় রোধে সহায়তা করে।
এই বিশাল আকারের জাহাজেটি যে শুধু সোলার এনার্জি দিয়ে চলে বিষয়টি তা কিন্তু মোটেও নয়, বরং এর মেইন প্রোপালশন সিস্টেম হিসেবে রয়েছে LNG (Liquefied Natural Gas)-ভিত্তিক হাইব্রিড ডুয়াল-ফুয়েল ইঞ্জিন।
যা প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় প্রায় ২৪% কম কার্বন নিঃসরণ ঘটায়। এতে Tier III NOx emission standard এবং EEDI Phase III-এর মতো পরিবেশবান্ধব ইনোভেটিভ প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে।
এই জাহাজটি চীনের ‘গ্রিন শিপিং ইনিশিয়েটিভ’-এর অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌযানের পরিবেশগত ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর লক্ষ্যেই চীন এই জাতীয় উচ্চ প্রযুক্তির হাইব্রিড জাহাজ তৈরিতে এগিয়ে এসেছে।
চীন থেকে গ্রিস পর্যন্ত সাগর পথে দুরুত্ব হতে পারে প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রপথে এই সফল বাণিজ্যিক ভ্রমণ শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, পরিবেশ সচেতনতার দিক থেকেও এটি একটি মাইলফলক অর্জন।

