-- বিজ্ঞাপন ---

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ শীতঝড় Winter Storm Fern: ২০ কোটি মানুষ ঝুঁকিতে

নাহিদ সরকার, নিউইর্য়ক#

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল বর্তমানে একটি অতীব শক্তিশালী শীতকালীন ঝড় Winter Storm Fern–এর মুখোমুখি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চলতি মৌসুমের অন্যতম বিস্তৃত ও বিপজ্জনক শীতঝড়, যা ইতোমধ্যেই দেশের প্রায় ২০০ মিলিয়নের বেশি মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইলেরও বেশি দীর্ঘ অঞ্চল জুড়ে এই ঝড় তুষারপাত, বরফ, freezing rain ও চরম শৈত্য নিয়ে আছড়ে পড়ছে।

জাতীয় আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, ঝড়টি দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ভারী তুষারপাতের পাশাপাশি বরফ জমে যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়ায় রাস্তাঘাট দ্রুত জমে যাচ্ছে এবং দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে আসছে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক শহরে ১২ ইঞ্চি বা তার বেশি তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে, যা স্বাভাবিক চলাচল কার্যত অচল করে দিতে পারে।

ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। টেক্সাস, ওকলাহোমা, আরকানসাস, জর্জিয়া, ভার্জিনিয়া এবং নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনাসহ অন্তত ৮টি রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় গার্ড ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে যাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা যায়।

স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই রাস্তা ও সেতুতে লবণ ও রাসায়নিক ছিটানোর কাজ শুরু করেছে। অনেক শহরে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারি দপ্তরগুলো সীমিত কার্যক্রমে যাচ্ছে। একাধিক এলাকায় ওয়ার্মিং শেল্টার খোলা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ, গরম খাবার, কম্বল ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে—বিশেষ করে গৃহহীন ও বয়স্ক নাগরিকদের জন্য।

এই শীতঝড়ের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে। ভারী বরফ ও freezing rain-এর কারণে বিদ্যুৎ লাইনে বরফ জমে তার ছিঁড়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, কিছু এলাকায় দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পানি সরবরাহ, হিটিং সিস্টেম ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

পরিবহন খাতেও বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধান মহাসড়কগুলোতে ট্রাক চলাচল সীমিত করা হচ্ছে, মালবাহী পরিবহনে বিলম্ব শুরু হয়েছে এবং বহু জায়গায় বাস ও ট্রেন চলাচল স্থগিত বা কমিয়ে আনা হয়েছে। বড় বিমান সংস্থাগুলো আগাম সতর্কতা হিসেবে ফ্লাইট পরিবর্তন ফি মওকুফ করেছে, যা ব্যাপক ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে। চরম ঠান্ডা, বরফে ঢাকা রাস্তা ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলে হাইপোথার্মিয়া, ফ্রস্টবাইট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বয়স্ক, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের বাড়ির ভেতর থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। রাতের দিকে তাপমাত্রা আরও নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে বরফ জমার মাত্রা বাড়বে, যা উদ্ধারকাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলতে পারে। অনেক এলাকায় দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগাম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর নাগরিকদের বড় একটি অংশ কার্যত ঘরের ভেতরেই অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, Winter Storm Fern একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শীতঝড়, যা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ থেকে উত্তর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে একযোগে প্রভাব ফেলছে। এই ঝড়ের ফলে আগামী দিনগুলোতে ফ্লাইট বাতিল, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, পরিবহন বিপর্যয় এবং জনজীবনে দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।##